স্যোশাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব 

what-is-what-is-social-media-techvilla24

এরকমটা কি কখনো হয়েছে যে তুমি একটা প্রোডাক্ট কিনতে চাচ্ছো তার কিছুক্ষন পরেই সেই প্রোডাক্টটার এড তোমার ফেসবুকের নিউজফিডে দেখতে পাচ্ছো? এটা কোনো জাদু নয়। এই বিষয়টা সম্ভব হয়েছে স্য়োশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কারনে। আজকের এই ব্লগে আমরা জানতে পারবো স্য়োশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি, কেন করবেন, কিভাবে করবেন এবং ব্যবসাখাতে এর গুরুত্ব কেমন। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী?(What is social media marketing) 

 সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM) হলো এমন এক টেকনিক বা সিস্টেম , যেখানে বিভিন্ন আলাদা আলাদা সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফরম Social Media Platform যেমন, Facebook, YouTube, Instagram, LinkedIn এবং আরো অন্যান্য প্লাটফর্ম গুলিতে সক্রিয় থাকা ব্যবহারকারিকে বা traffic কে লক্ষ্য (target) করে, পণ্যের গুণমান সচেতনতা (product brand awareness) ছড়ানো হয় বা বিভিন্ন product, service এবং business এর প্রচার (marketing) করা হয়। 

এই মার্কেটিং অনলাইন বা ইন্টারনেটে সক্রিয় থাকা মানুষদের টার্গেট (target) করে করা হয়। আর যেহেতু বর্তমান যুগটা ইন্টারনেটের যুগ তাই, একে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সব থেকে সেরা মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের প্রকারভেদ  

সোশ্যাল মার্কেটিং কী সে সম্পর্কে আমরা জানলাম। এখন আমরা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের প্রকারভেদ সম্পর্কে জানবো৷  

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে, যথা : 

পেইড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Paid Social Media Marketing)  

অর্গানিক সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Organic Social Media Marketing) 

পেইড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (paid social media marketing) 

পেইড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি মার্কেটিং কৌশল যেখানে আপনি যে সেবা বা পণ্যের জন্য যে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে চান, সোশ্যাল মিডিয়াগুলো আপনাকে সে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিবে। বিনিময়ে তারা আপনার থেকে একটি নির্ধারিত অর্থ নিবে। উদাহরনস্বরুপ, আপনারা ফেসবুকে Sponsored লেখা অনেক পোস্ট দেখে থাকবেন। সেইসকল পোস্ট পেইড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। এটিই সবচেয়ে কার্যকরী কৌশল, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কৌশলগুলোর মধ্যে। কারণ তারা আপনাকে ঠিক ঐ গ্রাহকদের কাছেই পৌঁছে দিবে, যারা ঐ সেবা বা অফারটি চায়। যার ফলে আপনার মার্কেটিং এবং পণ্য বিক্রি দুটোই অনেক সহজ হয়ে যায়। 

অর্গানিক সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং(organic social media marketing) 

অর্গানিক সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ, মার্কেটিংয়ের সাথে জড়িত সকল কাজ আপনার নিজেরই করতে হবে৷ কারণ এই মার্কেটিংয়ে আপনি সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে কোনো অর্থ প্রদান করছেন না। যার ফলে আপনার টার্গেট কাস্টমার খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণা চালানো সহ সবকিছুই আপনাকে নিজ থেকে করতে হবে। এই ধরণের মার্কেটিংকে ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংও বলা হয়। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কেন করবেন? (Why social media marketing) 

আমাদের ব্যবহ্রত পণ্য বা সেবার প্রচার ও প্রসারনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়ার বেশ কিছু কারণ নিম্নে আলোচলনা করা গেল যেমন : 

  • দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে আপনার পণ্য বা সেবার প্রচারণা করতে পারবেন ঘরে বসেই । এতে করে আপনার ব্যবসারও পরিধি বাড়বে। 
     
  • বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে, পণ্য বা সেবা সম্পর্কে মানুষকে জানানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংই সবচেয়ে ভালো বিকল্প। কারন এর মেইনটেন্স খরচ কম ও ওয়েবসাইটের মতো এত জটিলও না। 
  • পণ্যর সঠিক গবেষণা এবং পেইড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ব্যবহার করে সহজেই আমরা আমাদের টার্গেট কাস্টমারকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয় ।  
     
  • বিশ্বের অসংখ্য মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বলে, এখান থেকে সহজেই ভোক্তা এবং ক্রেতা পাওয়া যায়।  
     
    কোনো ব্র্যান্ডের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ার ব্য়বহারকারী বেশি সেহেতু অফলাইনের চেয়ে অনলাইনের প্রচারে সুবিধা বেশি। 
     
  • ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এতে আমাদের দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ বাড়বে। 
     
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনি অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মার্কেটিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকতে পারবেন, এতে ব্যবসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে। 
     

এরকম আরো অনেক কারণে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং খুবই জরুরী হয়ে পরেছে। 

কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করবেন? (Social media marketing processing) 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা জানলাম। এখন আমরা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কীভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে জানবো। বর্তমান বিশ্বে অসংখ্য সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে। তারমধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো : 

  • ফেসবুক(Facebook) 
  • টুইটার(Twitter) 
  • লিংকেডিন(LinkedIn) 
  • পিন্টারেস্ট(Pinterest) 
  • ইন্সটাগ্রাম(Instagram) 
  • ইউটিউব(YouTube) 
  • টাম্বলার(Tumbler) 
  • ফ্লিকার(Flicker) 
  • রেডিট(Reddit) 
  • কোরা(Quora)  

এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করা যায় তা নিম্নে গুরুত্বপূর্ন কয়েকটা আলোচনা করা হলো : 

ফেসবুক মার্কেটিং (facebook marketing) 

ফেসবুকের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং তিনটি প্রধান উপায়ে করা যেতে পারে: প্রোফাইল, পেজ এবং গ্রুপ। আপনি যদি একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট বাজারজাত করতে চান তবে আপনাকে প্রথমে আপনার ব্যবসার জন্য একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করতে হবে। আপনার ব্যবসা, পণ্য বা পরিষেবাগুলির একটি বিশদ বিবরণ থাকতে হবে। এছাড়াও, ক্লায়েন্ট আপনাকে একটি যোগাযোগ নম্বর প্রদান করবে যে কোনো প্রয়োজনে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে এবং এজন্য একটি ছোট বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে আপনার। আর নিশ্চিত করুন যে সমস্ত গ্রাহকের প্রশ্নের সঠিকভাবে উত্তর দেওয়া হয়েছে কিনা। 

লিঙ্কডইন মার্কেটিং(LinkedIn marketing) 

লিঙ্কডইন ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় না হলেও, তাদের প্রায় 774 মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। আর তারা গত 18 বছর ধরে তাদের জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে। আরেকটা বিষয়, আপনাকে LinkedIn-এ সবসময় পেশাদার দেখাতে হবে কারন, এটি একটি পেশাদার চাকরির বাজার। অতএব, প্রোফাইলসহ সবকিছু পেশাদার রাখুন। আপনার ব্যবসা যদি বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) ক্যাটাগরিতে পড়ে, তাহলে লিঙ্কডইন হতে পারে আপনার বিজ্ঞাপন দেওয়ার সেরা উপায়। কারণ বি-টু-বি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি অন্যতম খ্যাতিসম্পন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। এমনকি লিড জেনারেশনের জন্যও এটি অনেক কার্যকরী একটি মাধ্যম। 

ইউটিউব মার্কেটিং(youtube marketing) 

ইউটিউব হলো মার্কেটিংয়ের এমন একটি মাধ্যম যা আপনার কাজ অনেকটাই সহজ করে দেয়। সমীক্ষা অনুসারে, এটি বর্তমানে ইন্টারনেটে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ওয়েবসাইট। আজ, লোকেরা প্রথমে ইউটিউবে তাদের যেকোনো সমস্যার সমাধান খোঁজে। কারণ ইউটিউবের সমস্ত বিষয়বস্তু ভিডিও নিয়ে গঠিত, এবং আপনি যখন ভিডিও দেখে কিছু শিখতে বা জানতে চান, তখন এটি আপনার জন্য খুবই সহজ। আপনার প্রচার অভিযানের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার YouTube চ্যানেলের ফলোয়ার বাড়াতে হবে। আপনার যত বেশি গ্রাহক থাকবে, তত বেশি মানুষ আপনার ব্যবসা, ব্র্যান্ড, পণ্য বা পরিষেবা সম্পর্কে সচেতন হবে। যদি আপনার বিপণন আপনার বন্ধুদের মত হয়, তাহলে তারা তাদের বন্ধুদের সাথে আপনার চ্যানেলের তথ্য শেয়ার করবে, এবং এটি শেষ পর্যন্ত আপনার পণ্য বা পরিষেবা সম্পর্কে আরও বেশি সংখ্যক লোককে জানাতে সাহায্য় করবে। ফলস্বরূপ,আপনার বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। 

ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং(Instagram marketing) 

ইন্সটাগ্রামের বিভিন্ন রকম আকর্ষণীয় ফিচারকে কাজে লাগিয়ে যখন কোনো পণ্য, ব্র্যান্ড, সেবা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়, তখন তাকে বলা হয় ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং। বর্তমানে ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং ভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং খুব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম৷ 

প্রধানত দুইভাবে ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং করা যায়, যেমন : 

  • অর্গানিক(Organic)                   
  • পেইড(Paid) 

পেইড বা অর্গানিক যে উপায়েই আপনি মার্কেটিং করেন না কেনো, এর জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনা এবং ইন্সটাগ্রামের ফিচারগুলোর সুদক্ষ ব্যবহার৷ আপনার মার্কেটিং পরিকল্পনার সাথে সেগুলো যেনো মাননসই হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। 

আজ, ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ: 

  • একটি জরিপে দেখা গেছে যে 83% Instagram ব্যবহারকারী Instagram এর মাধ্যমে নতুন পণ্য বা পরিষেবা সম্পর্কে জানতে চায়। 
  • প্রতি মাসে প্রায় 1 বিলিয়ন মানুষ ইনস্টাগ্রামে যান, যার কারণে আপনার পণ্য, ব্যবসা, পরিষেবা বা ব্র্যান্ড বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে অ্যাক্সেসযোগ্য হবে। 
  • ইনস্টাগ্রামকে ফেসবুকের সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের একযোগে বিপণনের অনুমতি দেয়। 

ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিংয়ের জন্য, আপনাকে অবশ্যই নিম্নলিখিত দিকগুলি মনে রাখতে হবে: 

  • ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন। 
  • ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল কাস্টমাইজ করুন। 
  • বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করুন। 
  • আকর্ষণীয় এবং সুন্দর ক্যাপশন লিখুন। 
  • সময়মত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন। 
  • নিয়মিত পরিদর্শন করে প্রচারণা চালিয়ে যান। 
  • ইনস্টাগ্রামের গল্প ফাংশন যতটা সম্ভব কার্যকরভাবে ব্যবহার করুন। 
  • তথ্য বিশ্লেষণ ফোকাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
  • যদি ব্যবহারিক হয়, ইনস্টাগ্রামের কেনাকাটা বৈশিষ্ট্যটি ব্যবহার করুন। 
  •  

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কীভাবে শিখবেন?(How social media marketing learn) 

  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কোর্সের মাধ্যমে 
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ব্লগিং এর মাধ্যমে 
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কোর্স(social marketing course) 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শেখার একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী উপায় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কোর্স করা। অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই এই কোর্স করা যায়। আপনার যেভাবেই ইচ্ছা সেভাবেই আপনি কোর্সটি করে নিতে পারেন৷ অনলাইন কোর্স করতে হলে আপনাকে গুগল এবং অন্যান্য প্লাটফর্মগুলোর উপর নজর রাখতে হবে। আর অফলাইন কোর্সের জন্য আপনার আশেপাশে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখতে হবে। 

  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ব্লগিং(social marketing blog) 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী, কীভাবে করতে হবে এগুলো ভালো মতো বোঝার আরেকটি ভালো উপায় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সংক্রান্ত ব্লগ পড়া। দেশি-বিদেশি অনেক নামকরা ব্লগার সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে প্রায়ই ব্লগ লিখে থাকেন৷ আপনি তাদের ব্লগগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন তারা কীভাবে শুরু করেছিলেন, কীভাবে কী করেছিলেন, কীভাবে তারা আজকের এই পর্যায়ে এসেছেন। সাথে এটাও জানতে পারবেন যে কীভাবে আপনার শুরু করতে হবে, কীভাবে এগোতে হবে। এভাবে সহজেই আপনি ব্লগ পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখতে পারবেন। 

মোটকথা এই স্কিল শিখতে যে আপনাকে টাকা খরচ করতেই হবে বিষয়টা কিন্তু তা না। চাইলে আপনি ফ্রিতেও এই স্কিল শিখতে পারবেন। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কীভাবে আপনার ব্যবসা ক্যারিয়ারে ভূমিকা রাখতে পারে?  

পরিচিতি লাভ করা  (gain marketing value)

আপনি কী ব্যবসা করেন তা না জানলে কেউ কীভাবে আপনার পণ্য চিনবে অথবা কিনবে? আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এটি সহজে সম্পন্ন করতে পারেন। এই পেশায় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রথম ধাপ আপনার বন্ধুদের একটি তালিকা তৈরি করা। তাদের আপনার পেজে আমন্ত্রণ জানান এবং আপনি কী পন্য বা সার্ভিস দেন, তা তাদের জানান। এর ফলে যখন তাদের পণ্যের প্রয়োজন হবে, তারা অবশ্যই আপনার কাছ থেকে পন্যটি কিনতে বাধ্য হবে। আপনি যদি তাদের মানসম্পন্ন পরিষেবা প্রদান করতে পারেন, তবে তিনি সম্ভবত তার বন্ধুদের কাছে আপনাকে সুপারিশ করবেন। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনি আপনার প্রথম ধাপের গ্রাহক পারবেন।তার পর পেজবুস্ট। এখন আপনার পরিচিত না এমন মানুষদের কাছে পৌছানোর পালা। এটি পেজের র‌্যাঙ্কিং বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। তবে এখানে অনেকেই আটকে যান পেমেন্ট করতে গিয়ে। অনেকেরই ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নেই। আবার, আপনি একা এই কাজটিতে সময় ব্যয় করতে পারবেন না বা যেহেতু আপনি পেশায় নতুন, তাই বুস্টের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কোনোকিছু করার সম্ভাবনা কম। তার জন্য কোন সার্ভিস প্রোভাইডার এর হেল্প নিতে পারেন।যার মাধ্যমে আপনার মার্কেটিং ব্যবসা এর জন্য ফেসবুক বুস্ট করে নিয়ে আপনার ব্যাবসার বিস্তার ঘটাতে পারেন।  

যোগাযোগের উন্নতি (commination development) 

যেকোনো ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ। যোগাযোগ এবং গ্রাহকের মধ্যে দূরত্ব যত কম হবে, তত সহজে তারা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য এই দূরত্ব এখন শূন্য। আপনি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময় গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারেন।  

অফার লঞ্চ করা (offer produced)ঃ 

ব্যবসার পরিচিতি বাড়ানোর নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে অফার দেওয়া। এটি শুধুমাত্র এমন গ্রাহকদেরই আকৃষ্ট করবে না যারা ইতিমধ্যেই নিয়মিত,এমনকি যারা আপনার রেগুলার কাস্টমার না তাদেরও  পণ্য কেনার জন্য অনুপ্রাণিত করবে। সুতরাং, সময়ে সময়ে বিভিন্ন প্রচারের সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতে শব্দটি ছড়িয়ে দিন। শেয়ারিং নিবেদিত হয়. কেউ আমাদের সাহায্য করলে আমরা আনন্দিত। প্রস্তাবটি যদি একটি পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ হয়, তবে এটি শব্দটিকে নিয়োগ করে। কম খরচ: টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড এবং সংবাদপত্রের মতো ঐতিহ্যবাহী মিডিয়ার মাধ্যমে পণ্যের বিপণন ব্যয়বহুল। বিপরীতে, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কম ব্যয়বহুল। আপনি যদি আপনার কোম্পানিকে প্রসারিত করতে চান এবং আরও অর্থ উপার্জন করতে চান, তাহলে আপনি বিনা বিজ্ঞাপনে তা করতে পারেন। আজ, লোকেরা সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নির্ভর করে, তাই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করা আরও কার্যকর। 

যোগাযোগ বৃদ্ধিঃ(enhance commination ) 

যে কোন ব্যবসার সব থেকে গুরুত্বপূর্ন জিনিস হচ্ছে কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ। এই যোগাযোগ এর দুরত্ব যত কম হবে কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক করা তত বেশি সহজ হবে। যে কোন সময় যে কোন জায়গা থেকে কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। এটা যে শুধু আপনার রেগুলার কাস্টমারকেই আকৃষ্ট করবে তা না, অন্যান্যদেরও আপনার প্রোডাক্ট কিনতে আগ্রহী করবে। তাই মাঝে মাঝেই বিভিন্ন অফার দিয়ে সেটা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন। শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং। ভাল কোন কিছু কেউ আমাদের শেয়ার করলে আমরা অনেক খুশি হই। আর সেটা যদি কোন প্রোডাক্টের অফার হয় তাহলে তো কথায় নেয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রোডাক্ট অফার গুলো অনেক বেশি ভাইরাল হয়, যেটা আপনার প্রচার অনেক গুন বাড়িয়ে দিবে। 

কম খরচঃ (low cost marketing)

প্রচলিত বিজ্ঞাপন যেমন টিভি এড, বিলবোর্ড, নিউজপেপার এগুলাতে এড দিয়ে মার্কেটিং করা অনেক ব্যয়বহুল। অন্য দিকে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর খরচ প্রায় শূন্য। আপনি চাইলে ফ্রীতেই মার্কেটিং করে আপনার ব্যবসা প্রসার-প্রসার করতে পারবেন। ডিজিটাল যুগে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর, তাই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বেশি কার্যকরী। 

কাঙ্খিত কাস্টমারঃ (target customer)

নিশ্চয় আপনার প্রোডাক্টের নির্দিষ্ট কাস্টমার আছে। যেমনঃ কিছু প্রোডাক্ট আছে শুধু ছেলেদের দরকার, কিছু প্রোডাক্ট আছে মেয়েদের। আবার বয়স সীমারও একটা ব্যাপার আছে। এরকম ভাবে সঠিক কাস্টমার খুজে অফার বা মার্কেটিং করা খুবই দুঃসাধ্য কাজ। কিন্তু এটার উপরেই আপনার ব্যবসার সফলতা সম্পূর্ন নির্ভর। আপনার মেয়ে ক্যাটেগরির প্রোডাক্টের এড যদি ছেলে কাস্টমারের কাছে যায় বা অফার করা হয়, তাহলে আপনার মার্কেটিং সম্পূর্ন বৃথা। কিন্তু এই কাজটা খুব সহজেই করতে পারবেন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে। যেমন ফেসবুকের কথায় বলা যাক। আপনার প্রোডাক্টের ক্যাটেগরি অনুযায়ী সেই বয়স, জেন্ডারের মানুষকেই আপনার প্রোডাক্ট শো করাবে। আর আপনি যদি একটু খরচ করে ফেসবুক পেজ বুস্ট করলে কি হয় তা জানার ট্রায় করেন তাহলে তাহলে জানতে পারবেন আপনার কাস্টমার গুলো কোন এলাকার, কোন বয়সের, কোন জেন্ডারের কাস্টমার খুজতেছেন সেটা বলে দিতে পারবেন। এগুলা প্রচলিত অফলাইন মার্কেটিং করে অসম্ভব। 

কাস্টমার সেটিসফেকশনঃ (customer satisfaction)

সোশ্যাল মিডিয়ার কারনে এখন সবাই ভয়েস কলের থেকে মেসেজিং করতে বেশি পছন্দ করে। আপনার প্রোডাক্ট কিনতে এসে কাস্টমারের অনেক প্রশ্ন থাকতেই পারে, এর কারনে আপনার সাথে যোগাযোগটা অনেক সহজ এবং কম সময়ে হয়ে যায়, এবং সাথে সাথে প্রশ্নের উওর পেলে প্রোডাক্ট কিনতে আরো বেশি আগ্রহ থাকে। প্রোডাক্ট ডেলিভারি নিশ্চিত হওয়া  যায়  সহজেই এবং কাস্টমার ফিডব্যাক নেওয়া অনেক সহজ হয় যেটা অন্য কাস্টমারদের আগ্রহী করে। এত এত কারন থাকার পরও যদি সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার না করেন, তাহলে আপনার ব্যবসাকে খুব একটা দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না এই ডিজিটালাইজেশন এর যুগে। সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন আর ব্যবসাকে করুন ডিজিটাল, দ্রততম। 

শেষ কথাঃ 

উপরের লেখা থেকে এতক্ষনে হয়তো বুঝতে পেরেছেন বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া হলো একটি মানুষের নিত্যদিনের সাথী। দিনের বেশিরভাগ সময় মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়ে থাকে।যেহেতু এত এত মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটায় সেহেতু সেখানে হয়তো আপনার টার্গেট করা অডিয়েন্সও থাকতে পারে। যা কাজে লাগিয়ে নিজের অনলাইন বিজনেস খুব সহজেই  বড় করতে পারবেন। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু সময় ব্যয় না করে আজই একে সঠিকভাবে ব্যবহার করুন এবং হয়ে উঠুন একজন সফল ব্যবসায়ী। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *