হ্যাকিং কি? হ্যাকিং কত প্রকার ও কি কি? 

Hacking--techvilla24-bd

বর্তমানে টেকনোলজির উন্নতির সাথে সাথে আমাদের পার্সোনাল ডাটার সুরক্ষার ব্যাপারটা ও হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে প্রতিনিয়তই। তার সাথে সাথে হ্যাকিং এর শিকার হওয়ার সম্ভাবনা ও বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু হ্যাকিং আসলে কি এবং কিভাবে হ্যাকিং এর শিকার হতে পারি আমি আপনি অথবা অন্য কেউ।এই ব্যপারে আমরা অনেকেই অবগত না।  তাই আজকের পোস্টে হ্যাকিং কি? হ্যাকিং কত প্রকার ও কি কি ? এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচলনা করা হবে।  

হ্যাকিং কি? 

একজন ব্যক্তি চাইলেই সহজে হ্যাকিং রপ্ত করতে পারে না। দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস ও মেধা ব্যবহারের মাধ্যমে রপ্ত করা যায় হ্যাকিং এর স্কিল। হ্যাকিং একটি প্রযুক্তি নির্ভর প্রক্রিয়া। যাইহোক, হ্যাকিং হলো এমন একটি কার্যক্রম যা দ্বারা ইন্টারনেট কানেক্টেড ডিভাইসের আনঅথরাইজড অ্যাক্সেস নেওয়া হয়। অনেকভাবে হয়ে থাকে এই হ্যাকিং। তথ্য বা ফাইল, সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, ইমেইল, নেটওয়ার্ক, টেলিকমিনিউকেশন সিস্টেম এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র, যা বৈধ অনুমতি ছাড়া ব্যবহার অথবা নিয়ন্ত্রণ নেওয়াটা অনুচিত।হ্যাকার এই কাজ গুলো কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে কাজে লাগিয়ে করে থাকে। নিজের তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের অবশ্যই হ্যাকিং সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। কারণ হ্যাকিং প্রতিরোধ করতে এবং হ্যাকারের ইন্টেনশন বোঝার জন্য হ্যাকিং সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। 

হ্যাকিং-এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ঃ 

হ্যাকিং শব্দটি নিয়ে প্রথমে আলোচলনা শুরু হয় ১৯৬০ সালের দিকে, এরপর ১৯৬৩ সালের দিকে ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের গবেষণাপত্রে হ্যাকিং শব্দটি নিয়ে আসে।প্রযুক্তিগত বিষয়ে ‘ইনোভেটিভ সলিউশন’ খুঁজে বের করার উপায় হিসেবে হ্যাকিং শব্দটি ব্যবহার করা হতো। তবে হ্যাকিং বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভয়ানক হয়ে উঠছিল আশির দশকের পর থেকে। কারণ তখন প্রায় প্রতিটি সাধারণ মানুষের কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য ছিল। তারা অনেকে নিজেদেরকে হ্যাকিং এর সাথে জড়িয়ে নিয়েছিল পরিস্থিতি সহায়ক হওয়ার কারণে।তখন পরিস্থিতি এত ভয়ানক হয়ে উঠেছিল যে আমেরিকান সরকার অ্যান্টি সাইবার ক্রাইম আইন, ১৯৮৬ সাল, তৈরি করতে বাধ্য হয়েছিল। যার নাম ছিলো ‘কম্পিউটার ফ্রড অ্যান্ড অ্যাবইউজ অ্যাক্ট’।  

হ্যাকিং প্রধানত দুই প্রকার 

ইথিক্যাল হ্যাকিং (Ethical Hacking) 

আনইথিক্যাল হ্যাকিং (Unethical Hacking) 

ইথিক্যাল হ্যাকিং (Ethical Hacking) 

ইথিক্যাল  শব্দটির মাধ্যমে আমরা অনেকে বুঝতে পেরেছি যে ইথিক্যাল হ্যাকিং কি রকম হতে পারে ।ইথিক্যাল হ্যাকিং একটি বৈধ প্রক্রিয়া এবং সুরক্ষিত ব্যবস্থা। যেটিকে বলা যেতে পারে অনুমতি নিয়ে একটি সিস্টেমের সিকিউরিটি চেক।এর মাধ্যমে তথ্য, ফাইলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। উদহারণস্বরুপ:যে কোন ব্যাংকিং খাত হ্যাকিং এর স্বীকার হতে পারে! ব্যাংক কতৃপক্ষ এমন সম্ভবনা আচ করার পর,এই  হ্যাকিং থেকে সুরক্ষার জন্য একজন হ্যাকার নিয়োগের মাধ্যমে তথ্য ও ফাইল এর সিকিউরিটি চেক এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে থাকেন। এটিই হলো ইথিক্যাল হ্যাকিং।

আনইথিক্যাল হ্যাকিং (Unethical Hacking) 

যে হ্যাকিং অবৈধ উপায়ে এবং ক্ষতিসাধনের জন্য করা হয় তাকে আনইথিক্যাল হ্যাকিং বলে। বর্তমান বিশ্বে আনইথিক্যাল হ্যাকিং এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এই হ্যাকিংএ রয়েছে বেশ কিছু প্রকারভেদ। যেমনঃ 

ওয়েবসাইট হ্যাকিং (Website Hacking) 

যদি আপনার একটি ওয়েভসাইট থেকে থাকে আর সেটি যদি হ্যাকিং এর মাধ্যমে হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় তাকে ওয়েবসাইট হ্যাকিং বলে। এর ফলে আপনার ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে হ্যাকারের হাতে। হ্যাকার চাইলেই ওয়েবসাইটটির মালিকানা পরিবর্তন এবং ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারবেন। 

সোশাল ইন্জিনিয়ারিং (Social Engineering)   

ইহা এক ধরণের মনোবৈজ্ঞানিক কৌশল। আর এতে প্রথমে হ্যাকার একজন ভিকটিমের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরী করে। এরপর কথার ফাঁদে ফেলে ভিকটিম থেকে সকল তথ্য নিয়ে নেয়। এটিই সোশাল ইন্জিনিয়ারিং হ্যাকিং মেথড। যেটাতে ভিকটিম নিজেই তাঁর সকল তথ্য হ্যাকারেকে দিয়ে থাকে। যেমন: ধরে নেওয়া যাক আপনি একজন ফেসবুক ইউজার। হ্যাকার আপনাকে টার্গেট করে, ফেসবুকে মেসেজের মাধ্যমে একটা ভাল সখ্যতা গড়ে তুললো। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে মূলতে হ্যাকার আপনার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো হাতিয়ে নেয় এবং আপনি হ্যাকিং এর শিকার হোন। এটি সম্পুন ভিন্ন একটি হ্যাকিং কৌশল যেটি মনোবৈজ্ঞানিক কৌশল নামে ও পরিচিত ।  

নেটওয়ার্ক হ্যাকিং (Network Hacking) 

অন্য কারো অনুমতি ব্যতিত কারও নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হলো নেটওয়ার্ক হ্যাকিং। নেটওয়ার্ক হ্যাকিংএ ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন  ধরনের টুলস। উদাহরণস্বরুপ: যে কোন প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার গুলা একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের (LAN) সাথে সংযুক্ত থাকে। একজন হ্যাকার এই লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে অবৈধ উপায়ে প্রবেশ করার মাধ্যমে সেখান থেকে  গুরুত্বপূর্ণ ডাটা, ফাইল গুলো হাতিয়ে নিতে পারে। একে নেটওয়ার্ক হ্যাকিং বলে ।  

ইমেইল হ্যাকিং (Email Hacking)  

অনৈতিক ভাবে অন্যের ইমেইলে প্রবেশ করাই হল ইমেইল হ্যাকিং। হ্যাকিং করার পর ইমেইলে থাকা বিভিন্ন তথ্য, ফাইল হ্যাকার চাইলেই গ্রহণ করতে পারে এবং হ্যাক করা ইমেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অবৈধ কাজও চালিয়ে যেতে পারে একজন হ্যাকার।  

ফিশিং মেথড  (Phishing  Method)

হ্যাকিং এর একটি জনপ্রিয় এবং কার্যকরী মেথড হল ফিশিং মেথড। যেটি খুব সহজে একজন ব্যবহার কারীকে ধোকা দিয়ে বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নেয়। যেমন:একজন ব্যবহারকারী অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে, অথবা অনলাইনে কোন কাজ সম্পন্ন করতে নাম, ঠিকানা, ব্যক্তিগত মেইল, নাম্বার ব্যবহার করতে হয়। অথচ আপনি নিশ্চিত না, যেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য গুলো দিচ্ছেন, সেগুলো আসল নিরাপদ সাইট কিনা। হ্যাকাররা এই তথ্য সংগ্রহ করে আপনার ব্যবহৃত সাইটে মেসেজ অথবা কোন লিংক পাঠাতে পারে। যেখানে  দেওয়া নির্দেশনা গুলোতে থাকে ফাঁদ। যার অনুসরণে আপনার সকল প্রয়োজনীয় নথি চলে যাবে হ্যাকারের হাতে। ফলে হবেন হ্যাকিং এর স্বীকার। 

ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার (Black Hat Hacker) 

হ্যাকিং জগতের সবচেয়ে ভয়ংকর এবং প্রতিভাধর হ্যাকিং হচ্ছে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার। তারা কোন সিস্টেমের ভুল ত্রুটি নির্ণয় করে,নিজেদের মত করে একটি সিস্টেম তৈরী করে যাতে তারা চাইলে সিস্টমটিতে অনুপ্রবেশ করতে পারে। বেশির ভাগ সময় ক্ষতিকর এবং ভয়কর হ্যাকিং গুলো ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা করে থাকে।ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার সেনসিটিভ তথ্য চুরি করে আপনাকে ব্ল্যাকমেইলও করতে পারে। 

হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার (White Hat Hacker) 

যখন কোন বৈধ উপায়ে হ্যাকিং সিস্টেম পরিচালনা করা হয় তাকে হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার বলে। এরা কোন প্রতিষ্ঠানের বা কোন কোম্পানীর আইটি সিস্টেমের ত্রুটি গুলো খুঁজে বের করার মাধ্যমে তথ্য ও ফাইলের সুরক্ষা নিশ্চিত করে থাকে। 

গ্রে হ্যাট হ্যাকার (Grey Hat Hacker) 

এই হ্যাকার দল বৈধ এবং অবৈধ দুই রকমই হতে পারে। যেটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে হ্যাকারের ইচ্ছার উপর। যেমন: ধরুণ আপনি একটি কোম্পানীর হ্যাকার হিসবে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেন। আপনার কাজ নেটওয়ার্ক সিস্টেমের ভুল-ত্রুটি খুঁজে বের করা এবং সেই অনুযায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া। যদি আপনি সুযোগ নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ত্রুটি ধরে না দিয়ে, অনুমতি ছাড়া নিজের স্বার্থে ব্যবহার করলেন। চাইলে আপনি দুটোই করতে পারেন বৈধ অথবা অবৈধ উপায় অবলম্বণ। যেটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছা।  

হ্যাকিং থেকে বাঁচার কিছু অতি প্রয়োজনীয় ট্রিক্সঃ 

১. যে কোন অপরিচিত সফটওয়্যার ডাউনলোড করা বা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাক এমন কি তা যদি তোমার বন্ধুও বলে ব্যবহার করতে(সব বন্ধু না, তুমি যাদের বিশ্বাস কর আবার কর না)।যদি কোন সফটওয়্যার নিত্তান্তই ডাউনলোড করা লাগে আগে তার সম্পর্কে নেটে সার্চ করে যেনে নাও । 

২. যখন কোন সাইটে লগ-ইন করা হবে অবশ্যই সাইটের এডড্রেসটা ভালো ভাবে চেক করে নিতে হবে । এই ছাড়াও মেইল থেকে পাওয়া লিঙ্ক দিয়ে কোথাও লগ-ইন করা থেকে বিরত থাকতে হবে ।  

৩. তুমি যদি একজন ডেবলপার হও তাহলে তোমাকে অবশ্যই সাধারন ব্যবহারকারী থেকে আরো ভালো করে সিকিউরিটি সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। 

৪. পাসওয়ার্ড সব সময় ৮ ডিজিটের বেশি দাও। কী জেনারেটর সফটয়ার গুলো মাধ্যমে  সাধারন কম্পিউটার দিয়ে এর বেশি ডিজিটের পাসওয়ার্ড ভাংতে পারেন। যত পার নাম্বার দিয়ে পাসওয়ার্ড দেওয়া থেকে বিরত থাক। আর এখন প্রায় সব সাইটেই ইউনিকোড সাপোর্ট করে, তাই যদি কোন শব্দ ব্যবহার কর তাহলে নিজে দেশের শব্দ ব্যবহার কর যা তোমার মনে রাখতে সহজ হয়। তাই বলে ভেব না যে আমি তোমাকে শব্দ ব্যবহার করতে বলছি। যত পার শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাক। ইংরেজী শব্দকে সম্পূর্ন না বল। 

৫. আর অপরিচিত সাইটে লগ-ইন করা থেকে বিরত থাক। 

সুত্র ঃ Techvilla24 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *